Published : 20 Aug 2026, 01:16 AM
দেশের গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বেলা তিনটায় এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ফলস্বরূপ প্রতি ঘণ্টাতেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন অংশে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক; প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল, তা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
দেশীয় কূপ থেকে পাওয়া মোট গ্যাসের তুলনায় আমদানি করা গ্যাসের অভাব প্রকট হওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যেত, সেখানে এখন বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা বৃদ্ধি এবং গ্যাস সরবরাহের অভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে বৃহস্পতিবারও একই ধরনের দুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।।